bih.button.backtotop.text

আপনার নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাহায্যে ফুসফুসের ক্যান্সার নিরাময়ের মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ

September 06, 2019

সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ: “গবেষণায় দেখা যায় যে ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে মেটাস্টাসিস পর্যায়ে থাকা ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক হারে বাড়িয়ে দেয়, রোগীদের এবং চিকিৎসকদের ক্যান্সারের-বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অস্ত্রাগারে একটি বিশাল উন্নতি”


আপনি যদি এই অনুচ্ছেদটি পড়ে থাকেন তাহলে সম্ভবত আপনি ইমিউনোথেরাপির ব্যাপারে কিছু শুনেছেন। কিন্তু, আপনি কি জানেন ইমিউনোথেরাপি কী?

এক কথায়, ইমিউনোথেরাপি আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্যান্সার মোকাবিলায় সাহায্য করে। যদিও অনেক রোগের জন্যই বর্তমানে ইমিউনোথেরাপির ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু গবেষণায় দেখা যায় যে ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে মেটাস্টাসিস পর্যায়ে (ক্যান্সারের এমন একটি পর্যায় যেখানে ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষগুলো তাদের উৎপত্তিস্থল থেকে স্থানান্তরিত হয়ে শরীরের অন্য স্থানে ছড়িয়ে পরে) থাকা ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক হারে বাড়িয়ে দেয়। এই বিষয়টি রোগীদের এবং চিকিৎসকদের ক্যান্সারের-বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অস্ত্রাগারে একটি বিশাল উন্নতি

বিশ্বব্যাপী অসংখ্য সংখ্যক মানুষ ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। একে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, স্মল সেল লাং ক্যান্সার (SCLC)  এবং নন-স্মল সেল লাং ক্যান্সার (NSCLC)। ফুসফুসে আক্রান্ত সকল মানুষের মধ্যে প্রায় 80% ভাগ মানুষ নন-স্মল সেল লাং ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

পূর্বে ইমিউনোথেরাপি কেবলমাত্র কিছু চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল ছিল যা ক্যান্সার কোষগুলোকে সরাসরি আক্রমণের জন্য রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উদ্দীপিত করতো। সাম্প্রতিক গবেষণায় PD-1 প্রোটিন আবিষ্কার করা হয়, যা ক্যান্সার মোকাবিলায় রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাধা দেয়। এর ফলে কিছু ক্যান্সার কোষ শরীরে টিকে থাকতে সক্ষম হয়।

এই আবিষ্কারটির ফলে ফুসফুস ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন আলো দেখা দিয়েছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উদ্দীপিত করার মাধ্যমে ক্যান্সার কোষগুলোকে সরাসরি আক্রমণের পরিবর্তে প্রোটিনটি উল্টো ক্যান্সার কোষটি ধ্বংসে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, এবং এই সমস্যাটি বর্তমানে সংশোধন করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ করে দেয়।

নতুন এই আবিষ্কারটির পিছনে যে চিকিৎসা পদ্ধতিটি রয়েছে সেটি হল ইমিউন চেকপয়েন্ট থেরাপি - এর জন্য 2018 সালে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়াবার্কলে-এর অধ্যাপক জেমস অ্যালিসন এবং কিয়োটো ইউনিভার্সিটির তাসুকু হোঞ্জো যৌথভাবে ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরষ্কার জিতেছেন।
সেই থেকে FDA বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এবং ইমিউন চেকপয়েন্ট থেরাপিতে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সংস্করণের অ্যানটি PD-1 এবং PD-L1-এর অনুমোদন প্রদান করেছে, যার মধ্যে নন-স্মল সেল লাং ক্যান্সারও রয়েছে। আরও অপশনের মধ্যে রয়েছে পেমব্রোলিজুমাব (pembrolizumab), নিভোলুমাব (nivolumab), অ্যাটিজোলিজুমাব (atezolizumab), অথবা ডুরভালুমাব (durvalumab)।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি ঘোষণা করেছে যে এই ঔষধগুলোর প্রবর্তন ফুসফুস ক্যান্সারের চিকিৎসায় কোনো প্রকার বিপ্লবী ঘটনা নয়। পূর্বে, মেটাস্ট্যাটিক পর্যায়ে থাকা ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কেবলমাত্র মাত্র পাঁচ শতাংশ লোক রোগ নির্ণয়ের পরবর্তী সময়ে পাঁচ বছর রোগমুক্তভাবে জীবনযাপন করতে পেরেছে। সাম্প্রতিককালে, পেমব্রোলিজুমাব (pembrolizumab) এবং ইমিউন চেকপয়েন্ট থেরাপি ব্যবহার করে এটি 15-20 শতাংশ পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। ইমিউনোথেরাপি যখন কেমোথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয় তখন রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

ইমিউনোথেরাপি নন-স্মল সেল লাং ক্যান্সার নিরাময়ের ক্ষেত্রে একটি সুনিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে পরিণত হয়েছে। ইমিউন চেকপয়েন্ট থেরাপির আবির্ভাব রোগীদের উন্নত জীবনমান এবং স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে এবং সম্পূর্ণভাবে রোগ মুক্তি লাভের জন্য অধিক আশার আলো নিয়ে এসেছে।
 

 
For more information please contact:

Related Health Blogs