bih.button.backtotop.text

ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক সনাক্তকরণে কোলনোসকপির শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা

মলাশয় এবং মলদ্বার ক্যান্সার, একসাথে বলা হয় কলোরেক্টাল ক্যান্সার, বিশ্বজুড়ে তৃতীয় সর্বাধিক প্রাদুর্ভূত ক্যান্সার, এবং মলদ্বার ক্যান্সার হ'ল ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর চতুর্থ শীর্ষ কারণ।

# ক্যান্সার
#মলাশয়ের ক্যান্সার
# কোলনস্কোপি
# অর্শ
# মলাশয় বিষমুক্ত করা
 
মলাশয় এবং মলদ্বার ক্যান্সার, একসাথে বলা হয় কলোরেক্টাল ক্যান্সার, বিশ্বজুড়ে তৃতীয় সর্বাধিক প্রাদুর্ভূত ক্যান্সার, এবং মলদ্বার ক্যান্সার হ'ল ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর চতুর্থ শীর্ষ কারণ। ২০৩০ সালের মধ্যে, নতুন কেসগুলি প্রতি বছর ৬০% বৃদ্ধি পেয়ে বিশলক্ষের ও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই রোগে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা বার্ষিক এগারো লক্ষে পৌঁছবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
এটি অনুমান করা হয় যে কোলনস্কোপি সহ নিয়মিত পরীক্ষা করানো হলে মলাশয়ের ক্যান্সার জনিত কারণে মৃত্যুর প্রায় ৬০% প্রতিরোধ করা যেতে পারে, কোলনস্কোপি সহ নিয়মিত পরীক্ষা মলাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক সনাক্তকরণের শীর্ষস্থানীয় পরীক্ষা। আসলে, যে দেশগুলিতে কলোনস্কোপি এবং মলাশয়ের ক্যান্সারের নিয়মিত পরীক্ষা বেড়েছে সেখানে মলাশয়ের ক্যান্সারের হার হ্রাস পেয়েছে।
 
এখানে পাঁচটি তথ্য রয়েছে যা মলাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধে এবং প্রাথমিক সনাক্তকরণে কোলনোস্কপির প্রধান ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে।
 
১. প্রাথমিক সনাক্তকরণে জীবন রক্ষাকারী সুবিধা রয়েছে।
মলাশয়ের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি ধরা পরে এবং এর সুচিকিত্সা নিশ্চিত করা গেলে তা সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য এবং পরিত্রান পাওয়া সম্ভব l প্রাথমিক সনাক্তকরণের জন্য চ্যালেঞ্জটি হ'ল যে মলাশয়ের ক্যান্সার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে , প্রায়শই কোনও লক্ষণ তৈরি করে না যতক্ষণ না রোগটি ইতিমধ্যে তার পরবর্তী পর্যায়ে অগ্রসর হয়। সেই মুহুর্তে, পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের মধ্যে মলাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণগুলির মধ্যে যা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
  • পেটে ব্যথা
  • ফুলে যাওয়া, মোচড়ানো
  • রক্তাক্ত মল
  • অন্ত্র অভ্যাস পরিবর্তন
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • অবসাদ
  • অনুভূতি যে অন্ত্রগুলি কখনও খালি থাকে না
  • বমি বমি ভাব এবং / বা বমি করা
  • মলদ্বার ব্যথা
  • অব্যক্ত ওজন হ্রাস
 
২. কলোনস্কোপি সকল প্রকার স্ক্রিনিং পরীক্ষার মধ্যে সর্বোচ্চ মানসমম্পন্ন গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড বলে পরিগণিত হয়l
কোলনস্কোপি হ'ল মলাশয়ের ক্যান্সারের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল স্ক্রিনিং পরীক্ষা। মলাশয়ের সমস্ত ক্যান্সার স্ক্রিনিং পদ্ধতির মধ্যে কোলনোস্কোপি করার কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে  এমন একটি যোগসূত্র রয়েছে lকোলনোস্কোপির অন্যান্য বিকল্প রয়েছে, কিন্তু সেগুলোর ক্যান্সারযুক্ত পলিপগুলি সনাক্ত করার ক্ষমতা সীমিত। বিকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে:
  • সিগময়েডোস্কোপি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একজন চিকিৎসক পলিপস, অস্বাভাবিকতা এবং ক্যান্সারের উপস্থিতি অনুসন্ধানের জন্য কোলনোস্কোপের চেয়ে ছোট দৈর্ঘ্যের একটি নল মলদ্বার দিয়ে  মলাশয়ের নীচের অংশে প্রবেশ করান l এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে চিকিত্সক যে কোনও অস্বাভাবিক পলিপ কেটে ফেলতে পারেন এবং আরও অধিকতর পরীক্ষার জন্য এগুলি সংগ্রহ করতে পারেন।   সিগমাইডোস্কোপি স্ক্রিনিং কোলনোস্কপির তুলনায় স্বল্প পরিমাণে কোলন ক্যান্সারের মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে সম্পর্কযুক্ত l
  • ফিকাল অকাল্ট রক্ত পরীক্ষা (FOBT) পলিপ বা ক্যান্সার কোষের উপস্থিতি অনুসন্ধান করে। চিকিত্সকরা সাধারণত বার্ষিক বিরতিতে (FOBT) স্ক্রিনিং পুনরাবৃত্তি করার পরামর্শ দেন, তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী যা রোগীর মলাশয়ের ক্যান্সারের মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে। সেই তুলনায়, দ্বিবার্ষিক (প্রতি 2 বছর) (FOBT) স্ক্রিনিং মলাশয়ের ক্যান্সারের মৃত্যুর হারকে স্বল্প পরিমাণে হ্রাস করে।
 
৩. কলোনস্কোপি দুটি উদ্দেশ্য সাধন করে।
অন্যান্য কোলন ক্যান্সার স্ক্রিনিং টেস্টের মতো, যেমন সিটি কোলনোগ্রাফি এবং স্টুল টেস্টগুলির মতো নয়, কোলনোস্কোপি প্রথমে একটি ডায়াগনস্টিক টুল যা পলিপস এবং অস্বাভাবিক টিস্যু বৃদ্ধি সনাক্তকরণে অত্যন্ত নির্ভুল। কোলনোস্কোপির সময়, যদি একটি পলিপ পাওয়া যায়, তবে কোলনোস্কোপি দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হিসাবে কাজ করে - যা পলিপেক্টমি নামে পরিচিত একটি পদ্ধতিতে কলোনোস্কোপের মাধ্যমে তারের-ফাঁস দেত্তয়া সরঞ্জাম ব্যবহার করে অবিলম্বে পলিপ অপসারণ করা হয় l
কোলনোস্কোপি স্ক্রিনিংয়ের সময় পাওয়া প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সারজনিত বৃদ্ধি সাধারণত প্রক্রিয়া চলাকালীন অপসারণ করা যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত না ক্যান্সারজনিত সমস্ত টিস্যু সাফল্যের সাথে অপসারণ করা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত রোগীকে সাধারণত কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের মতো আরও চিকিত্সার প্রয়োজন হয় না - প্রায় 6 মাস থেকে এক বছর পরে কলোনিস্কোপি পুনরায় করা হলে  ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তি হওয়ার লক্ষণগুলি পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব হয়।
 

.কোলন ক্যান্সার সাধারণত পলিপের মাধ্যমে শুরু হয়
কিছু ধরণের পলিপ আছে যা জীবননাশক না, এ থেকে ক্যান্সার আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা খুব কম থাকে  কিছু অন্য ধরণের পলিপ আছে যার মাধ্যমে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে, এই ধরণের পলিপ কে সাধারণত প্রী-ক্যান্সার  বা এডেনোমাস বলা হয় যদিও সব পলিপ এর মাধ্যমে ক্যান্সার হয়না তবে পায়ুপথের ক্যান্সার এর জন্য পলিপ জড়িত কিছু লোকের বংশগত কারণেও পলিপ হয়ে থাকে, অন্য কারো জীবনযাত্রার মানের উপর নির্ভর করে, কারো কারো অন্য কোনো দীর্গস্থায়ীরোগ এর কারণে আর কিছু পলিপের কোনো কারণ জানা যায়না কোলোনস্কোপিয়ের মাধ্যমে কোলন ক্যান্সার পরীক্ষা করা যাই এবং যদি কোনো এডেনোমাস পাওয়া যায় তবে তা সরিয়ে ফেলা যায়
 

৫. আপনার উপসর্গ জানুন দ্রুত চিকিৎসা শুরু করবার জন্য
কিছু উপসর্গ আছে যা বিপদজনক এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হয় এইগুলা হলো, পাযুপথের রক্তক্ষরণ, সবসময় পেট ব্যথা এবং অস্বস্তি যা নিজেই থেকে কম হয়না এবং দ্রুত ওজন কমে যাওয়া ও মল ত্যাগ এর অভ্যাস পরিবর্তন হওয়া


পরীক্ষা করাবার উপদেশ
ডাক্তাররা উপদেশ দিয়ে থাকেন ৫০ বছরের উপরের পুরুষ এবং মহিলা কোনো উপসর্গ ছাড়াই কোলোনোস্কোপি করানো উচিত আপনার বংশে যদি কারো ক্যান্সার বা কোলন ক্যান্সার থেকে থাকে তাহলে আপনাকে ৪০ বছরের মধ্যে একবার কোলোনোস্কোপি করানো উচিত যদি এই সময় কোলোনোস্কোপি ফলাফল স্বাভাবিক থাকে তবে ৫ থেকে ১০ বছর অথবা ডাক্তারের পরামর্শ মতো কোলোনোস্কোপি করানো উচিত আপনার যদি জানতে হয় আপনার খোকন কোলোনোস্কোপি করানো উচিত তবে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন

Dr Veerakit  Apiratprachasin , বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি এবং হেপাটোলজি বিশেষজ্ঞ 
 
 
 

Related Health Blogs