bih.button.backtotop.text

অন্তরের ক্ষমতা: ক্যান্সারের সেবিকাদের মমতাময় আলিঙ্গন ও হাতে হাত রেখে চলা


ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের পরিচর্যায়, একটি অন্যতম জটিল বিষয় হলো কেমোথেরাপির জন্য শিরা খুঁজে পাওয়া। তার কারণ ইতোমধ্যেই রোগী এত ইনজেকশন ও ইন্ট্রাভেনাস ড্রিপ পেয়েছেন যে বাকি স্থিতিশীল শিরার পরিমান কমে আসে এবং তা বিরলও হয়ে পড়ে। একারণে রোগীদের দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে আমরা চিকিৎসকদের ওষুধ তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় লাইন বেছে নিতে উৎসাহিত করি। কণিকা বোঁনপ্রাছোম, অন্কলোজি নার্স ম্যানেজার (ক্যান্সারের সেবিকাদের ব্যাবস্থাপক) হরাইজন রিজিওনাল ক্যান্সার সেন্টার তার রোগীদের সম্পর্কে ধৈর্যসহকারে তার চিন্তা-চেতনার একটি সামান্যতম উদাহরণ দিলেন এমনি করেই।

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের পরিচর্যায়, একটি অন্যতম জটিল বিষয় হলো কেমোথেরাপির জন্য শিরা খুঁজে পাওয়া। তার কারণ ইতোমধ্যেই রোগী এত ইনজেকশন ও ইন্ট্রাভেনাস ড্রিপ পেয়েছেন যে বাকি স্থিতিশীল শিরার পরিমান কমে আসে এবং তা বিরলও হয়ে পড়ে। একারণে রোগীদের দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে আমরা চিকিৎসকদের ওষুধ তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় লাইন বেছে নিতে উৎসাহিত করি। কণিকা বোঁনপ্রাছোম, অন্কলোজি নার্স ম্যানেজার (ক্যান্সারের সেবিকাদের ব্যাবস্থাপক) হরাইজন রিজিওনাল ক্যান্সার সেন্টার তার রোগীদের সম্পর্কে ধৈর্যসহকারে তার চিন্তা-চেতনার একটি সামান্যতম উদাহরণ দিলেন এমনি করেই।
 
অন্কলোজি নার্স(ক্যান্সারের রোগীদের সেবিকা) হিসেবে আমাদের রোগীর সম্পূর্ণ চিকিৎসা চলাকালীন তাদের সাথে নিরবিচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে হয়। হতে পারে এটা তাদের পুরো চিকিৎসার পরিকল্পনার সংশ্লিষ্ট খুঁটিনাটি বিষয়সমূহ, হতে পারে তারা যে রোগে আক্রান্ত তা সম্পর্কিত তথ্যাদি, ব্যয়সমূহ, অথবা চিকিৎসা পরবর্তী ফলো-আপ সংক্রান্ত তথ্য, অন্কলোজি নার্সরা চিকিৎসক ও রোগীর মাঝে প্রয়োজনীয় সকল তথ্যাদি আদান-প্রদান করতে সহায়তা করে থাকেন।
 
কণিকার ভাষ্যমতে, "হাসপাতালের প্রধান মতবাদ অনুযায়ী, রোগীর নিরাপত্তা এবং স্বস্তি নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এর ওপরে ও তারপরেও আমরা বাস্তবত আমাদের চিন্তা-চেতনা, মন-মানসিকতাকে পূর্ণরূপে আমাদের কাজের মাঝে পরোক্ষভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসার অভিজ্ঞতাকে আরো উষ্ণ ও উৎকৃষ্ট করে তুলবার প্রচেষ্টা অবিরামভাবে চালিয়ে যাই, যেটা একই সাথে রোগীদের পাশাপাশি নার্সদের জন্যও সুবিধাজনক হয়ে ওঠে।" তিনি আরো বলেন, " আমরা রোগীদের হৃদয়ের যত কাছাকছি যেতে পারি, তাদের তত বেশি নৈতিক সমর্থন আমরা প্রদান করতে সক্ষম হই। অবশেষে তা চিকিৎসার সর্বোন্নত ফলাফল পেতে পরিচালিত করে।"

দক্ষ পর্যবেক্ষণশীলতা রোগীর পরিচর্যায় আমাদের নিকট উদ্বর্তনস্বরূপ
 
"যেসব রোগীদের চিকিৎসা ইতোমধ্যেই শেষ তবে এখনো ক্যান্সারমুক্ত ঘোষিত হননি, তাদের উদ্বেগ থাকে সব চাইতে বেশি। তাদের মাঝে এই উদ্বেগটি বেশি কাজ করে যে, তারা হয়তো এখনো আরোগ্য লাভ করেননি, অথবা এর কারণে তারা হয়তো এমন কিছু করে বসবেন যার দরুন, সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে ক্যান্সার ফিরেও আসতে পারে। একারণে আমাদের অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণের মাঝে থাকতে হবে এবং যেকোনো ভালো উপদেশ দেবার জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি রোগীর বমি ভাব দেখা দেয়, তবে আমাদের রোগীকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে যেদিন তিনি ওষুধ খেয়েছিলেন এবং কি ওষুধ খেয়েছিলেন সেব্যাপারে। এতে আমরা তড়িৎগতিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো এবং ডাক্তারকে অবগত করবো, অথবা ফার্মাসিস্টের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়া হবে যাতে ফার্মাসিস্ট এসে রোগীকে ওষুধের ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে পারেন।" কণিকা বললেন। " যদি আমরা খেয়াল করি যে, রোগী তার খাবার পুরোপুরি শেষ করতে পারছেনা, তবে আমরা তৎক্ষণাৎ পুষ্টিবিদের সাথে যোগাযোগ করি, রোগী কি খাবার খাচ্ছেন বা কতটুকু রেখে দিচ্ছেন। অতঃপর পুষ্টিবিদ এটি নিশ্চিত করেন যে, রোগী যেন অন্তত এতটুকু খাবার খেতে পারে যেটা তার শরীরে শক্তি যোগাবে এবং চিকিৎসা চলাকালীন যাতে ভালো মনোবল  বজায় রাখতে পারে।"
 
ক্যান্সারের চিকিৎসার ধরণ এমন যে অন্কলোজি নার্সদের অবশ্যই ভিন্ন ভিন্ন বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হয়। " সম্মেলন চলাকালীন আমরা আমাদের সব চাইতে দুরূহ কেসগুলো নিয়ে আলোচনা করি। এভাবে আমরা একে ওপরের কাছ থেকে শিখবার চেষ্টা করি, যেমন বিভিন্ন উপায়ে কিভাবে রোগীর মনোবলকে স্থির রাখা যায়, ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দিতে হবে তার সম্পর্কে ধারণা লাভ করি। আমরা আমাদের কৌশল এবং চর্চার ধরণগুলো একে ওপরের সাথে আলোচনা করি যাতে সকল অন্কলোজি নার্স একই মানের সেবাদানের জন্য সমানভাবে প্রস্তুত থাকে।
 
কণিকা একজন অন্কলোজি নার্স কাজের বর্ণনা আরো সুন্দরভাবে দিলেন, যেমন কেমোথেরাপির পরিচালনা, এবং যেসব রোগীর ব্লাড কাউন্ট কম থাকে তাদের জন্য প্রযোজ্য  বিভিন্ন ধরণের রক্ত কণা ও প্লাসমা ইনফিউশন এর বর্ণনা। ব্যবহার উপযোগী শিরা খুঁজে পাবার সক্ষমতাকে বাড়িয়ে বলবার কিছু নেই। রোগীরা সর্বদা কোনো না কোনো ধরণের ইনজেকশন পাচ্ছেন যাতে তাদের শিরা সঙ্কুচিত হয়ে আসে, যার কারণে ইনজেকশন বের করে আনতে হয়। অবশিষ্ট শিরা খুঁজে পেতে প্রকৃত দক্ষতা অত্যাবশ্যক, এর জন্য কখনো কখনো বিশেষ রক্ত বন্ধ করার যন্ত্র বিশেষ ও গরম সেকের দরকার হয়। কিছু বিশেষ জটিল ক্ষেত্রে হাসপাতালের অনুগত আইভি (ইন্ট্রাভেনাস) টিমকে ডাকা হয়।
 
আমরা আপনাদের কষ্ট কমিয়ে আনতে চাই
 
যতবারই আমরা আমাদের রোগীকে ব্যথায় কাতরাতে দেখি, যেমন যখন আমরা উপযুক্ত শিরা খুঁজে বের করবার চেষ্টা করি, তখন আমরাও ব্যাথিত হই। এটা যদি শুধুমাত্র একবার হতো, তাহলে হয়তো এটা অতটা মন্দ হতোনা, কিন্তু ক্যান্সারের রোগীদের এটি প্রতিনিয়ত সংঘটিত হতে থাকে, " কণিকা স্বীকার করলেন। এখানেই শেষ নয়, ক্যান্সার ওষুধগুলো ও এতটা শক্তিশালী যে যদি শিরা ছিঁড়ে যায়, তবে এটি এর আশেপাশের পেশির টিস্যুগুলোকে মেরেও ফেলতে পারে। একারণে আমরা পূর্ণ রূপে মূল্যায়ন করে থাকি এবং যখন সম্ভব তখন ডাক্তারের অনুমুতি সহকারে একটি সেন্ট্রাল লাইন ব্যবহার করি।"

1-1200x800.jpg

সেন্ট্রাল লাইন বা যা সেন্ট্রাল ভেনাস ক্যাথিটার (সিভিসি) নামেও পরিচিত, এর মাদ্ধমে বারবার যে ওষুধগুলো দিতেই হবে তা দেবার জন্য শিরা ফুটা করা থেকে বিরত থাকা যায়। সেন্ট্রাল লাইনের মাদ্ধমে সরাসরি নির্দিষ্ট জায়গায় প্রদান করা যায়। " যখন সেন্ট্রাল লাইন প্রতিস্থাপনের পর, প্রতিটা নার্স কে ওষুধ তদারকি অথবা সামান্য রক্ত বের করতে হবে সুচ রোগীর শরীরে প্রবেশ না করিয়েও যাতে নলের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করানো যায়। রোগী সুচ প্রবেশ করানোর সময় কোনো বেথায় এ অনুভব করেনা, আমরা এতে এমনভাবে দক্ষতা অর্জন করেছি যে নলে কখনোই আটকে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়নি," কণিকার মাঝে সামান্যতম অহংকারের ছিটেফোঁটাও দেখা দেয়নি।
 
ভবিষ্যতের জন্য আশাবাণী
 
নার্স হিসেবে, আমরা আমাদের রোগীর জন্য যাই করি তা আমাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে করি। আমরা প্রতিটি ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের বলতে চাই যে প্রযুক্তির প্রতিনিয়ত উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে; আমরা আমাদের প্রতিটি রোগী দৃঢ়বল এবং ইতিবাচক মনোভব বজায় রাখবে সেই প্রত্যাশা করি। আমরা স্বস্তিদায়ক ও অভিনিবিষ্ট থাকবার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যখনই আমাদের রোগীর মুখে হাসি ফুটে ওঠে, ওই হাসির সতেজতায় আমাদের অন্যান্য রোগীদের মানি সাহসের সঞ্চার করে। প্রতিটি আলিঙ্গন, প্রতিটি হাতের উষ্ণ ছোঁয়ার ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র, বললেন কণিকা, হরাইজন রিজিওনাল ক্যান্সার সেন্টারের সকল নার্সের পক্ষ থেকে।

Related Health Blogs