bih.button.backtotop.text

ভালোবাসা থেকে হৃদয় এ আরো বেশিকিছু আছে

এই বর্ণনায় " হৃদয়কে ঠিক রাখতে ভালোবাসার ক্ষমতা একটা উপনাস্যের লাইন এর মতো লাগে, কিন্তু আপনি জানেন কি এটা বিজ্ঞানিক ভাবেও প্রমাণিত? ভালো সম্পর্ক - হতে পারে রোমান্টিক, প্লেটোনিক বা একটি পোষা প্রাণীর সাথে- ভালো স্বাস্থ্যের জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে ঋৎপিন্ডের জন্য , ঋৎপিন্ডের রক্তনালীর রোগ এবং মৃত্যুর হার কমাবার জন্য.

সবসময় ঋদপিন্ডকে প্রাদান্য দেয়া হয়, কিন্তু আবেগ , যেমন ভালোবাসায় পড়া অথবা ভালোবাসা করা আসলে শুরু হয় আমাদের মস্তিস্ক থেকে. যখন এমনটা হয়, তখন আমাদের মস্তিস্ক থেকে এড্রেনালিনে এবং নরপাইনফ্রাইন নামক হরমোন নিস্সরণ হয়. আমরা যখন প্রেমে পড়ি তখন বন্ডিং হরমোন অক্সিটোসিন এর নিস্সরণ হয়. এই সকল হরমনের একটা প্রতিক্রিয়া পুরো শরীরে উপর পরে, হার্ট বীট বাড়ায় এবং রক্তনালী সম্প্রসারণ করে, যার জন্য রক্ত চলাচল ভালো হয় এবং ঋৎপিন্ড ভালো মতো কাজ করে.

হালকা ছুঁয়ে দেয়া, দৃষ্টি সংযোগ, সম্মত কথাবার্তা, শুধুমাত্র প্রিয়জনের ব্যাপারে চিন্তা করা আপনার শরীরের উপর ভালো প্রভাব ফেলতে পারে. ঋৎপিন্ডের ভালো কার্যক্ষমতা, সম্প্রসারিত রক্তনালী যারা উচ্চ রক্তচাপের রুগী তাদের জন্য খুবই ভালো এবং যারা চাপা রক্তনালীর রোগে ভুগছেন তাদের জন্য.

শারীরিক সুবিধা থেকেও এটা মানসিক ও চারিত্রিক সুবিধাও দেয়. ডাক্তার জুলিয়ানা হল্ট- লুনস্টেড , ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটিতে নিউরোসায়েন্স এবং ফিচলজির উপর গবেষণা করছেন, যিনি ৩ লক্ষ্য লোকের উপর গবেষণা করেছেন. উনার গবেষণার ফল যা PLOS মেডিসিন জার্নালএ প্রকাশিত হয়েছে , এতে বেরিয়ে এসেছে যাদের সাথে আমাদের গভীর সম্পর্ক আছে তাদের মাধ্যমে আমরা বেশি অনুপ্রাণিত হই. আমরা যখন অসুস্থ থাকি তখন এটা আমাদের নৈতিকভাবে সমর্থন দেয়, অথবা আমাদের অনুপ্রাণিত করে যেন আমরা স্বাস্থকর খাবার খাই এবং নিয়মিত ব্যয়াম করি. এটা বলা যায় এমন ভালো সম্পর্ক আমাদের জীবনে অনেক উপকার নিয়ে আসে যেমন ধূমপান ছেড়ে দেয়া.

মার্কিন ন্যাশনাল হেলথের পরিসংখ্যানে দেখা যায় যারা বিবাহিত তারা বেশি বছর বাঁচে, যারা অবিবাহিত, ডিভোর্সড অথবা বিপত্নীকদের তাদের থেকে. কিন্তু এটা গুরুত্ব দেয়া উচিত যখন এটা ঋৎপিন্ডের স্বাস্থ্যের ব্যাপার আসে, ভালো সম্পর্ক বেশি সম্পর্কের থেকে অনেক বেশি জরুরি. একটি অবিবাহিত যুগল অনেক ভালো স্বাস্থ্যের অদিকারী হয় তুলনামূলক অখুশি দম্পতি বা ভালোবাসাহীন মানুষের থেকে.

আপনি যদি এখনো একটি রোমান্টিক সম্পর্কে জড়ান নাই তাহলে চিন্তা করবেন না. পরিবার, বন্ধুবান্দব অথবা আপনার পোষা প্রাণীর সাথেও যদি ভালো সম্পর্ক থাকে তবে তা আপনার ঋৎপিন্ডকে সুস্থ রাখে. সুইডিশ গবেষণায় দেখা যায়, যারা রক্তনালীর রোগে ভুগছেন তাদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবার পর যাদের পোষা প্রাণী আছে তাদের  ৬৭ শতাংশ কম মৃত্যুঝুঁকি থাকে যারা এক থাকেন তাদের সাথে তুলনা করলে. তাদের আবার হাসপাতালে আসবার প্রয়োজন ও কম যারা এক থাকেন তাদের তুলনায়. কারণ তাদের এই চার পায়ের প্রাণী তাদের কে বাইরে নিয়ে যেতে বাধ্য করে এবং বাইরে যাদের সাথে দেখা হয় তাদের সাথে কথা বলতে হয়. এটা অবশ্যই বলা যায় পোষা প্রাণী তার মনিবের ঋৎপিন্ডে জায়গা করে নেয়.

অল্প বয়স থেকে ভালো সম্পর্ক গড়লে তা একটি দীর্গমেয়াদি বিনিয়োগ. ডাক্তার রবার্ট ওয়েল্ডিংয়ের যিনি হার্ভার্ড এর বয়স্কদের নিয়ে পরীক্ষার ডিরেক্টর হিসাবে কর্মরত,  যা পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্গসময় ধরে চলা একটি বিজ্ঞানিক রিসার্চ. ১৯৩৮ সাল থেকে, ৮০ বছর ধরে মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করে এই সমীক্ষা চালানো হয়. একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যা পাওয়া গেছে, মাঝ বয়স থেকে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো বুড়ো বয়সের জন্য. এটা কোলেস্টরেল লেভেল থেকেও ভালো অনুমান করে.

ভালোবাসার এই মাসে, বুমরুনগ্রাদের হার্ট সেন্টার সবাইকে অনুরোধ করছে সবাই তার হার্ট ভালো রাখার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা করা, স্বাস্থকর খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ পরীক্ষা করতে. এখনই সময় ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার হতে পারে তা মানুষের সাথে বা জন্তুর সাথে, আপনার নিজের স্বাস্থ্যের জন্য এবং মনে রাখবেন আমরা সবসময় প্রস্তুত হৃদয় দিয়ে আছি আপনার হৃদয়কে ভালো রাখতে.

For more information please contact:

Related Health Blogs