bih.button.backtotop.text

Nurse Navigator

November 23, 2020

“যখন কোনো রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় এবং ফলাফলে দেখা যায় যে সে ক্যান্সারে আক্রান্ত, তখন তার অনুভূতিটি এমন হয় যে তিনি যেন গভীর জলে ডুবে যাচ্ছেন। তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের কিছু সাহায্যের প্রয়োজন হয়।” আমরা সর্বদা রোগীর স্বার্থকে আগে প্রাধান্য দিই। রোগীর শরীর, মন এবং আত্মিক অবস্থা, অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হয় যাতে করে দ্রুত এবং সর্বোত্তম উপায়ে তার সকল সমস্যার সমাধান করা যায়।

“যখন কোনো রোগীর স্বাস্থ্যের পরীক্ষা হয় এবং ফলাফলে দেখা যায় যে সে ক্যান্সারে আক্রান্ত, তখন তার অনুভূতিটি এমন হয় যে তিনি যেন গভীর জলে ডুবে যাচ্ছেন। তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের কিছু সাহায্যের প্রয়োজন হয়।” এটিই খুন মাম নাথা সুকটুয়া (Khun Mam Nattha Suktua)-এর প্রধান দায়িত্ব। তিনি হরাইজন ক্যান্সার সেন্টার, বুমরুঙ্গাদ হাসপাতালের (Horizon Cancer Center, Bumrungrad Hospital) নার্স ন্যাভিগেটর।

 “একজন নার্স ন্যাভিগেটরের প্রতিনিয়তই নানা রকম চ্যালেঞ্জ এবং উত্তেজনার সাথে মোকাবিলা করতে হয়, কেননা তাদেরকে প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরণের রোগীর সম্মুখীন হতে হয় যাদের সমস্যাগুলোও হরেক রকমের হয়ে থাকে। 13 বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খুন মাম (Khun Mam) বিভিন্ন বিষয় পরিচালনা এবং সেগুলোর সমন্বয় সাধন করতে সক্ষম যার মাধ্যমে সর্বদা রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠার পরপরই আমরা ভাবি, আজকে যতো সংখ্যক রোগীই তাদের সমস্যা নিয়ে আসুক না কেন বা তাদের সমস্যাগুলো যতোই জটিল হোক না কেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ চেষ্টাটি করবো। পাশাপাশি কোনো রোগী দ্রুত এবং যথাযথভাবে চিকিৎসা পাচ্ছে সে বিষয়টি নিয়ে আমরাও অনেক আনন্দ অনুভব করি। বিষয়টি অনেকটা পানির আমাদের মনকে পরিষ্কার করে দেয়ার মতন এবং এই প্রবহমান শক্তি সবসময়ই তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।”

একজন নার্স ন্যাভিগেটরের প্রধান দায়িত্বসমূহ
খুন মাম (Khun Mam)-এর দায়িত্ব খুব সাধারণ মনে হয়; প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করা ও এর মাধ্যমে সমন্বয় স্থাপন করা। কিন্তু, হরাইজন ক্যান্সার সেন্টারে (Horizon Cancer Center) এই কাজটিকে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। কারণ, যখন কোনো রোগীকে সেন্টারে পাঠানো হয় তখন বেশীরভাগ রোগীই তাদের রোগের কারণে বিষণ্ণ, নিরুৎসাহিত এবং হতাশ থাকে এবং সেই অবস্থান থেকে কিভাবে কী করতে হবে সেই বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা থাকে না। ভিন্ন ধরণের এই কেসগুলো নিয়ে খুন মাম (Khun Mam) কাজ করবেন। খুন মাম (Khun Mam) বলেন যে, “রোগীরা যখন তাদের ক্যান্সারের ব্যাপারে অবগত হবে, তার মধ্যে 60% এরও বেশি সংখ্যক রোগী কিছুটা ব্যথা অনুভব করবেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা তাদের করনীয় কাজগুলো সঠিকভাবে করবেন না। এধরণের কেসগুলো নিয়ে কাজ করার সময় আমরা আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোগীটির চিকিৎসা করবো।” প্রত্যেকটি কেসের ক্ষেত্রে আমরা সর্বদা রোগীর স্বার্থকে আগে প্রাধান্য দিই। রোগীর শরীর,  মন এবং আত্মিক অবস্থা,
 
 
অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হয় যাতে করে দ্রুত এবং সর্বোত্তম উপায়ে তার সকল সমস্যার সমাধান করা যায়। শরীরের ক্ষেত্রে আমাদের যতো দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, রোগীর যদি কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয়, তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই মেডিক্যাল কেমিস্টের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। আবার, কোনো রোগী যদি কিছু খেতে না পারে, তাহলে যথার্থ পরামর্শ এবং সেবার জন্য পুষ্টিবিজ্ঞানী বা নিউট্রিশনিস্টের সাথে যোগাযোগ করতে হয়। আমরা রোগীদের সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসক নির্ধারণ করা এবং তাদের সাথে যতো দ্রুত সম্ভব যোগাযোগ করার কাজ করে থাকি।
খুন মাম (Khun Mam) আরও বলেন যে,  মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কেননা রোগীর মধ্যে ভালো লক্ষণগুলো পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠার জন্য আবেগ বা অনুভূতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরা রোগীর সাথে কথা বলবো, তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিবো এবং এভাবে তার সাথে একটি সুন্দর সম্পর্ক গোড়ে তোলার চেষ্টা করবো যাতে করে তিনি নিরুদ্বেগপূর্ণ হন এবং আশ্বস্ত হন যে তার সাথে কেউ না কেউ আছে। এবং পরিশেষে, রোগীদের আত্মিক বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, আরব দেশের কিছু রোগী রয়েছেন, যারা গভীরভাবে ধর্মবিশ্বাসী এবং তারা তাদের স্রষ্টাকে সম্মান করেন। আমরা যদি তাদের প্রার্থনার সময় তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি, তাহলে আমাদেরকে প্রথমে অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে, এই বিষয়গুলোও আমাদের অবশ্যই বোঝা উচিত।”

 

সেরা চিকিৎসার জন্য রোগীদের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি
নার্স ন্যাভিগেটরের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল নানান ধরণের রোগীদের সাথে যোগাযোগ করা এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এসকল রোগী প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরেও হতে পারে, কিংবা সংশ্লিষ্ট বিদেশী কোম্পানিগুলোও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি বুধবার মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ড মিটিং-এ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করা, যেখানে চিকিৎসকগণ তাদের রোগীর নানান ধরণের জটিল সমস্যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন যাতে করে রোগীদের জন্য সেরা চিকিৎসাটি নিশ্চিত করা যায়। মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ডে প্রায় 30টি যৌথ কর্মক্ষেত্র রয়েছে, যেমন- মেডিকেল রেডিওলজিস্ট হিসেবে, প্যাথলজিস্ট, এবং নার্স, অথবা যদি কোনো বায়োপসি করার প্রয়োজন হয়, তাহলে সিঙ্গাপুর বা যুক্তরাষ্ট্রের মলিকিউলার ল্যাবে রক্ত পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়। সেক্ষেত্রে খুন মাম (Khun Mam) প্রত্যেক কোম্পানির নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করবেন।

দলবদ্ধভাবে কাজ করা এবং তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান করা
দলবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে খুন মাম (Khun Mam) বলেন যে, “যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে, হরাইজন ক্যান্সার সেন্টারে (Horizon Cancer Center) কোন কাজটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, আমি বলবো আমি সব কাজই সমান গুরুত্বের চোখে দেখি। কেননা, হরাইজন ক্যান্সার সেন্টার (Horizon Cancer Center)-এর জন্য রোগীদের সঠিক ও সুষ্ঠু চিকিৎসাটিই মুখ্য বিষয়। আমরা সংঘবদ্ধভাবে, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এবং অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবো। উদাহরণস্বরূপ, কিছু সময় আগে একজন বিদেশী লোকের কেস আমাদের কাছে এসেছিলো; তখন আমরা বিদেশী বিভাগের অনুবাদকের সাথে যোগাযোগ করি, এবং চিকিৎসক সম্পূর্ণ বিষয়টি দেখার পর মেডিকেল কেমিস্টের সাথে যোগাযোগ করেন। একসাথে বসে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার পর তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, রোগীর জন্য লাইট রেডিয়েশন প্রয়োজন। এরপর তারা লাইট রেডিয়েশন বিষয়ক ডাক্তারকে তাদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করলেন। অবশেষে, কোনো সার্জনের প্রয়োজন হলে, তারা ফোন-ইন ডক্টরের সাথে যোগাযোগ করেন। আমি মনে করি, এভাবে দ্রুত গতিতে এবং সংঘবদ্ধভাবে কাজ করার উদাহরণ সাধারণ হাসপাতালে সচরাচর দেখা যায় না।”

খুশি এবং সবসময়, এমনকি ছুটির দিনেও কাজ করতে ইচ্ছুক
কাজের ক্ষেত্রে রোগীর ব্যাপারে চিন্তা করাই মুখ্য বিষয় হওয়া উচিৎ। কেননা, খুন মাম (Khun Mam)-এর কাজের মূলনীতি হচ্ছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস অর্থাৎ এমন একটি স্থান যেখানে একত্রে নানান ধরণের সেবা প্রদান করা হয়। এমনকি ছুটির দিনেও রোগীর প্রয়োজনে তাকে উপস্থিত থাকতে হবে। “এমনও অনেক কেস রয়েছে যেগুলোতে ছুটির দিনে আমাকে রোগীদের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করতে হয়েছে, কিন্তু আমি এই কাজটি খুব দ্রুত এবং আনন্দের সাথে করেছি। কিছুদিন আগের একটি কেসের কথা- একজন রোগী মলত্যাগ করেন এবং রক্ত-বমি করেন, সেখানে উপস্থিত নার্স খেয়াল করে যে লক্ষণগুলো ভালো নয়, তখন তারা আমার সাথে যোগাযোগ করে। আমি এই কেসটির জন্য দায়িত্বরত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করি এবং রোগীর চিকিৎসার জন্য জরুরী কক্ষে যোগাযোগ করি। কেননা, চিকিৎসা ব্যতীত রোগীর শকে চলে যাওয়া এবং এমনকি মারা যাবারও সম্ভাবনা ছিল। যথাযথ চিকিৎসার পর রোগীর অবস্থা ভালো হতে থাকে, যা দেখে আমরা খুবই আনন্দিত হই। সেসময় ক্লান্তির কোনো কথাই মাথায় আসেনি। আমরা খুবই আনন্দিত ছিলাম।”

রোগীর ব্যাপারে বিস্তারিত সবকিছুতে মনোযোগ দেয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ
“অনেক সময় রোগীরা ভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করে কিংবা কালো জাদুর শরণাপন্ন হয় এবং প্রায়ই তারা এটি গোপনে করে থাকেন। তাদের পরীক্ষানিরীক্ষা করার পর আমরা এই বিষয়টি অনুমান করতে পারি, কেননা সঠিক চিকিৎসার ফলাফলটি এমন হওয়া উচিৎ ছিল না। কিন্তু, রোগীরা সাধারণত এই বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন। আমাদের উচিৎ রোগীদের সাথে একটি সুন্দর সম্পর্ক গোড়ে তোলা, যাতে করে তারা বুঝতে পারেন যে, আমাদেরকে তারা বিশ্বাস করতে পারেন। আমাদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করার ফলে তারা তাদের সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে এবং যাতে করে আমাদের চিকিৎসায় আর কোনো বাধার সৃষ্টি না হয়। অনেক সময় তারা গোপনে পট হারবাল মেডিসিন বা ভেষজ ঔষধ গ্রহণ করে থাকেন, যা তাদের শরীরের শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ কমিয়ে দেয় অথবা মারাত্মকভাবে তাদের লিভার বা যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত করে। এছাড়াও, তারা তাদের চিকিৎসার জন্য নিজেরাই গাঁজা ব্যবহার করেন, যেগুলোর খারাপ পরিণতিগুলো সম্পর্কে তাদের জানা নেই। আমরা যখন কোনো রোগীর কাছ থেকে এসকল বিষয় সম্পর্কে অবগত হই তখন আমরা দায়িত্বরত চিকিৎসককে এই বিষয়গুলো জানাই, যাতে করে তিনি এগুলোর সমাধান বের করতে পারেন।”
পরিশেষে খুন মাম (Khun Mam) বলেন যে, “আমরা রোগীদেরকে আমাদের আত্মীয়ের মতোই ভাবি। অসুস্থতার কারণে তারা চিন্তিত বা উত্তেজিত হয়ে পরেন, এবং জীবনের এই জটিল সময়ে তারা তাদের পাশে কাউকে চান যাদের উপর তারা ভরসা করতে পারেন। একারণে এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমাদের সেরাটা দেয়া উচিত, যাতে করে যথাযথ চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ করা এবং রোগীদের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট, দ্রুত এবং সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতিটি নিশ্চিত করা যায়।”

নার্স ন্যাভিগেটর হিসেবে কাজের মূলনীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়
“প্রতিদিন ঘুম ভাঙ্গার পর আমি আমার কাজকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করি, সবসময় ভাবতে থাকি আজকে আমরা কী ধরণের কেস বা সমস্যার সমাধান করবো? এবং দিন শেষে আমি সারাদিনের কাজের ব্যাপারে পর্যালোচনা করি যে, আজকে কি হয়েছে এবং এমন কি কিছু রয়েছে যেটি আমরা আরও উন্নত করতে পারি? এমন কি কিছু রয়েছে যার মাধ্যমে আমরা আরও ভালো করতে পারি? আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, আমি একজন নার্স ন্যাভিগেটর হিসেবে আমার কাজে ক্লান্তি বোধ করছি কিনা,
 
 
 আমি স্বীকার করবো যে আমি কিছুটা ক্লান্ত, কিন্তু আমি যখন ফিরে তাকাবো এবং দেখবো, আমরা যে রোগীটির চিকিৎসা করেছি সে আগের চেয়ে সুস্থ, নিরাপদ এবং সময়মত চিকিৎসা লাভ করেছে, তখন আমি আশ্বস্ত হই এবং তখনই সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।”
 
For more information please contact:

Related Health Blogs